This content was developed for Bangladeshi Nationals.

‘চরপাড়া মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়’ নেত্রকোণা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নে অবস্থিত। বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য দুই চেম্বারের একটি টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলেও  দীর্ঘদিন যাবত একটি চেম্বার ছিল তালাবদ্ধ এবং অন্য চেম্বারটিতেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল না। ছাত্রীদের সংখ্যা অনুপাতে ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার বা টয়লেটের সংখ্যা কম থাকার ফলে একই সময়ে একাধিক ছাত্রীর টয়লেট ব্যবহারে সমস্যা হত। মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর টয়লেটটি ব্যবহারে ছাত্রীরা নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পরে। জাতীয় ভিত্তি জরীপ ২০১৪ সালের তথ্য মতে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকার কারণে মাসিককালীন সময়ে ছাত্রীরা মাসে ৩-৫দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে যা এই চরপাড়া মহাদেবপুর বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়।

ছাত্রীদের স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সিমাভি’-এর সহযোগীতায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ডর্প, ঋতু প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের টয়লেটের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নেত্রকোণা সদর উপজেলার দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত ডর্প কর্মীর উদ্যোগে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সাথে একটি সভা করা হয়। সেই সভায় টয়লেট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য সময় উপযোগী পরিকল্পনা করা হয়। আলোচনা সভায় মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (এমএইচএম) বান্ধব টয়লেটের গুরুত্ব ও করণীয় উপস্থাপন করেন এবং বিদ্যালয়ের টয়লেট দুইটির চেম্বার মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ স্কুলের বাজেট থেকে বহন করা এবং চলমান পানি সরবরাহের ব্যবস্থার (পাইপলাইন সংযোজন, সাবমেরসিবল পাম্প, ওভারহেড ট্যাংকি ও ফিটিংস উপকরণ) খরচ স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ১৯ এপ্রিল ২০১৭ রৌহা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর ৮২ হাজার টাকা বাজেট চেয়ে আবেদন করেন।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা স্ট্যান্ডিং কমিটির দ্বি-মাসিক সভায় এসএমসি সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেই সভায় উপস্থিত হয়ে চরপাড়া মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য এমএইচএম বান্ধব টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছাত্রীদের টয়লেটের সেফটি ট্যাংকি মেরামতসহ, ওভারহেড ট্যাংকি, সাবমেরসিবল পাম্প স্থাপন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে চলমান পানির ব্যবস্থার জন্য ৮২হাজার টাকা বাজেট বরাদ্দে স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রৌহা ইউনিয়ন পরিষদের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট বই থেকে দেখা যায় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) খাতে ১০ লক্ষ টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখা আছে। সেই বাজেট থেকে স্কুল স্যানিটেশনের উন্নয়নের জন্য ৮২ হাজার টাকা বাজেট বরাদ্দে ডর্প-এর কর্মী, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করেন এবং দাবী আদায়ের জন্য চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করেন।

কিছুদিন পর বিষয়টি স্ট্যান্ডিং কমিটির মাধ্যমে ইউনিয়ন সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব সফিকুল ইসলাম বাতেন, চরপাড়া মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধার উন্নয়নের জন্য একটি আবেদনপত্র প্রধান শিক্ষক থেকে গ্রহণ করেছেন বলে সকলকে অবহিত করেন। ছাত্রীদের টয়লেট সুবিধার উন্নয়ন অধিক গুরুত্বপূর্ন হওয়ায় অগ্রাধীকার ভিত্তিত্বে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে উক্ত ৮২ হাজার টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান। সমন্বয় সভার সকল সদস্যই বিষয়টির উপর আলোচনায় অংশ নেন  এবং বাজেট বরাদ্দে একমত পোষণ করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে সাবমেরসিবল পাম্প, পানির  ওভারহেড ট্যাংকি ক্রয়সহ সকল উপকরণ ক্রয় শেষে স্থাপনসহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। উক্ত বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দ স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের ১% খাত থেকে দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা (এমএইচএম) বান্ধব টয়লেট নিশ্চিত হওয়ায় ৩৬০জন ছাত্রীর প্রবেশাধীকার নিশ্চিত হয়েছে।

ঋতু প্রকল্পের অধীন ডর্প প্রতিটি স্কুলের পানি, স্য্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধার উন্নয়ন করে মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা (এমএইচএম) বান্ধব টয়লেট স্থাপনে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে লবিং এবং এডভোকেসির কাজ বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে, রৌহা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চরপাড়া মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে।

রৌহা ইউনিয়ন পরিষদের মত যদি সকল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই ভাবে প্রয়োজনীয় ফান্ড নিশ্চিত করা যায় তাহলে ৮টি উপজেলায় নির্বাচিত ৮৯টি মাধ্যমিক স্কুলের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর প্রায় ১৭ হাজার ছাত্রীর পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিন অধিকার নিশ্চিত হবে। টয়লেট ব্যবহার বিষয়ে ছাত্রীদের আস্থা তৈরী হবে, ছাত্রীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে, ঝরে পড়া রোধ হবে এবং ছাত্রীরা সকল পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.