Various aspects of adolescence

Various aspects of adolescence

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

বয়ঃসন্ধিকালীন নানা ঝুঁকি:

  • মা-বাবা ও শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের জবাব না-পেলে ও কৌতূহল না মিটলে অথবা প্রশ্ন বা কৌতূহল মেটাতে দ্বিধা বোধ করলে, কিশোর-কিশোরীরা ভুল ও ক্ষতিকর তথ্যের সামনে পড়তে পারে। কারণ বন্ধুবান্ধব ও নিম্নমানের বই থেকে পাওয়া তথ্য সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত না-ও হতে পারে।
  • পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না-থাকলে তারা হতাশাগ্রস্ত বা বিভ্রান্তিকর আচরণ করতে পারে এবং বিপথগামী হয়ে যেতে পারে
  • এ বয়সে কিশোর-কিশোরীরা আবেগপ্রবণ থাকে, ফলে অন্যেরা তাদের এ দুর্বলতার সুযোগ নিতে চায়। কখনো কখনো তারা ধর্ষণসহ নানা ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। অনেক সময় কিশোরদেরও এ বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়
  • কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তন অন্যের দৃষ্টিগোচর হয়, ফলে তাদের প্রতি অন্যেরা আকর্ষণ বোধ করে এবং তাদের উত্ত্যক্ত করে। এ কারণে কিশোরীদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব পায় এবং চলাফেরা, আচরণ, স্কুলে যাওয়া ইত্যাদির ওপর পাকাপোক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়
  • কিশোরীদের ভুলিয়ে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে পাচার করা হয়। কখনো-বা তাদের বিক্রি করে দেয়া হয়
  • দরিদ্র পরিবারের অনেক কিশোর-কিশোরীকে এ বয়সেই অন্যের বাড়িতে বা বাইরে উপার্জনে যেতে হয়। সেখানেও যৌন নির্যাতনের শিকার হবার ভয় থাকে অথবা তাদের ভুলিয়ে কেউ কেউ তাদের থেকে নানা যৌন সুবিধা নেবার চেষ্টা করতে পারে
  • না-জেনে না-বুঝে কৌতূহলবশত বা অসৎসঙ্গে পড়ে অনেক কিশোর বয়ঃসন্ধিকালেই ধূমপান ও অন্যান্য মাদক গ্রহণ করতে শেখে বা সমবয়সী কিশোরীদের উত্ত্যক্ত করে

বয়ঃসন্ধিকালে পরিবার, সমাজ, ও বিদ্যালয় থেকে যে সাহায্যগুলো নেয়া প্রয়োজন:

  • শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলোকে প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে গ্রহণ করা এবং বয়ঃসন্ধিকালীন যেকোন কৌতূহল নিবৃত্ত করতে বাবা-মা, ভাই-বোন ও শিক্ষক-শিক্ষিকার সাহায্য নেয়া
  • সঠিক তথ্য না-জানার কারণে নিজে নিজে বা বন্ধুবান্ধবের পরামর্শে কোনো বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতিতে পড়লে কিংবা কারো দ্বারা উত্ত্যক্ত বোধ করলে যথাসম্ভব দ্রুত অভিভাবকদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য কারো কাছে বিষয়টা খুলে বলা
  • প্রজনন অঙ্গ সংশ্লিষ্ট বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা বোধ করলে শুরুতেই অভিভাবকদের মাধ্যমে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা
  • মন্দ লোকদের দেয়া যেকোন রকম প্রলোভনকে সযত্নে এড়িয়ে চলা
  • স্কুল ও অন্যত্র যাওয়া-আসার সময় পরিপার্শ্ব সম্পর্কে সতর্ক থাকা। সম্ভব হলে সহপাঠীদের সাথে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করা
  • ভালোভাবে না-জেনে না-বুঝে কোনো দুঃসাহসিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী না-হওয়া

অভিভাবক ও শিক্ষকদের করণীয়:  

  • কিশোর-কিশোরীদের সময় দেয়া এবং নানা প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো
  • কিশোর-কিশোরীদের সাথে সম্পর্কটাকে শাসনের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়া, যাতে তারা বন্ধুর মতো সব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে
  • কিশোর-কিশোরীরা কোনো সমস্যায় পড়লে বা ভুল করলে তাদের না-ধমকিয়ে, শাস্তি না-দিয়ে সমস্যা বা ঘটনাটা ভালো করে বুঝবার চেষ্টা করা ও তার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া
  • কিশোর-কিশোরীদের পর্যাপ্ত স্বাধীনতা দেয়া ও স্বাধীন সময়টা তারা কীভাবে অতিবাহিত করে সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর রাখা
  • কিশোর-কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার জন্য ইতিবাচক আলোচনা করা

Leave a Reply

Your email address will not be published.