Know your body

Know your body

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

মাসিক নিয়ে আলোচনা করতে গেলে মেয়েদের প্রজনন অঙ্গগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা থাকা ভালো। এতে মাসিক প্রক্রিয়াটি বুঝতে সুবিধা হতে পারে।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের প্রজনন অঙ্গ বহিঃস্থ ও অভ্যন্তরীণ- এই দুই প্রকার হয়। বহিঃস্থ অঙ্গ বলতে বোঝায় যে অঙ্গগুলো বাইরে থেকে দেখা যায়। অভ্যন্তরীণ অঙ্গ বলতে বোঝায় যা শরীরের ভেতরে থাকে ও বাইরে থেকে দেখা যায় না। নারীর ক্ষেত্রে এই বহিঃস্থ অঙ্গগুলোর মধ্যে পড়ে, স্তন, লেবিয়া মেজরা ও লেবিয়া মাইনরা যা যোনিপথের অংশ এবং ক্লাইটরিস। অভ্যন্তরীন অঙ্গগুলোর মধ্যে আছে, ডিম্বাশয়, ডিম্বনালী, জরায়ু, জরায়ুমুখ ইত্যাদি।

মেয়েদের প্রজনন অঙ্গগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

স্তন

স্তন সরাসরি যৌন অঙ্গ না হলেও প্রজনন অঙ্গের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেওয়ার জন্য স্তনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বয়ঃসন্ধির সময় মেয়েদের শরীরের এই অংশটি পরিবর্তিত হয়।

লেবিয়া মেজরা ও লেবিয়া মাইনরা

লেবিয়া মেজরা হচ্ছে চর্বিযুক্ত চামড়ার ভাঁজ যার উপরের অংশ লোমযুক্ত থাকে। গাইনিকোলজির ভাষায় ল্যাটিন শব্দ ভাল্ভা-ও ব্যবহৃত হয় হয় এই অংশের নাম হিসেবে। লেবিয়া মাইনরা যোনির আরেকটু ভেতরের অংশ তবে তা বাইরে থেকেও দেখা যায়। লেবিয়া মাইনরায় কোন লোম থাকে না। লেবিয়া মাইনরার ভেতরেই উন্মুক্ত হয় যোনিপথ (ভ্যাজাইনা) এবং মূত্রপথ (ইউরেথ্রা)।

যোনিপথ বা ভ্যাজাইনা

যোনিপথ বা ভ্যাজাইনা স্ত্রী জননাঙ্গের অন্যতম প্রধান অংশ। এর কাজ যৌন অনুভূতি পাওয়া, যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গ ধারণ করা, সন্তান জন্মদান এবং মাসিকের রক্ত শরীর থেকে বের করে দেওয়া।

ক্লাইটোরিস বা ভগাঙ্কুর

ভ্যাজাইনার থেকে একটু ওপরে, মূত্রপথের ওপরে থাকে ক্লাইটোরিস বা ভগাঙ্কুর। ক্লাইটোরিস মূত্রপথ বা ইউরেথ্রাকে ঢেকে রাখে। এছাড়া এর তেমন কোন কাজ নেই। তবে, যৌনমিলনের সময় উত্তেজনা তৈরিতে ভূমিকা রাখে শরীরের এই অংশ।

 

স্ত্রী প্রজনন অঙ্গের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অংশগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ 

ডিম্বাশয়

ডিম্বাশয় হচ্ছে স্ত্রী জননাঙ্গের এমন একটি অংশ যেখানে প্রতি মাসে একটি ডিম্ব উৎপন্ন হয়। ডিম্বাণুর গঠন পূর্ণ হলে তা ফেটে যায় ও ডিম্বনালী বেয়ে জরায়ুতে চলে আসে। এই প্রক্রিয়াকে অভ্যুলেশন বলা হয়।

ডিম্বনালী বা জরায়ুনালী  

ডিম্বনালী বা জরায়ুনালীর কাজ হচ্ছে পরিপূর্ণ ডিম্বাণুকে বহন করে ডিম্বাশয় থেকে জরায়ুতে নিয়ে আসা। মাসিক চক্র সম্পন্ন হলে ডিম্বাণুর গঠন পূর্ণ হয় ও তা ফেটে গিয়ে নালী বেয়ে জরায়ুতে চলে আসে।

জরায়ু

জরায়ু থাকে শ্রোণিচক্রের মধ্যে। এর সামনে থাকে মূত্রাশয় ও পেছনে মলনালী। জরায়ু দেখতে নাশপাতির মতন, সন্তান ধারণ করলে এর আকার বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে।

জরায়ুর কাজ হচ্ছে নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোটকে ধারণ করা, জাইগোটটি ভ্রূণ হয়ে গেলে সেই ভ্রূণকে পুষ্টি দিয়ে বেড়ে ওঠায় সাহায্য করা। এ ছাড়াও যখন নারী গর্ভধারণ করেন না, তখন ফেটে যাওয়া ডিম্বকোষ ও অনাগত সন্তানের জন্য সৃষ্টি হওয়া জরায়ুর দেয়ালের পুষ্টির আস্তরটি রক্তের আকারে শরীর থেকে বের করে দেওয়াও জরায়ুর কাজ।

জরায়ুমুখ

জরায়ুমুখ বা সারভিক্স হচ্ছে জরায়ু ও যোনির সংযোগস্থল। জরায়ুমুখ দিয়েই সন্তান প্রসব হয়। মাসিকের রক্তও এই পথ দিয়েই বের হয়ে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.