This content was developed for Bangladeshi Nationals.

“এখন বড় হওয়ার পালা, আনন্দে আত্মবিশ্বাসে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত হয় ঋতু’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। দেশের সর্বস্তরের মেয়েরা বিশেষ করে স্কুলগামী মেয়েরা যেন মাসিকবান্ধব পরিবেশে বেড়ে ওঠে সেজন্য মাসিক নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করে সামাজিক জাগরণ গড়ে তোলার আহবান জানায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং রেডঅরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্-এর যৌথ আয়োজনে রবিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে ‘মেয়েদের সেরা স্কুল’ টিভি সিরিজসহ ঋতু প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকায় অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত লিওনি কুলেনারে। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এটুআই প্রকল্প পরিচালক জনাব কবির বিন আনোয়ার।

বাংলাদেশে প্রতি মাসে ২ কোটি ৫০ লক্ষ নারীর মাসিক হয়। কিন্তু মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় শতকরা ৮৫ ভাগ মেয়েরা এ সময় পুরানো কাপড় ব্যবহার করেন। আর স্কুলগামী মেয়েদের মধ্যে মাত্র ৩৬ ভাগ মেয়েদের প্রথম মাসিকের আগে মাসিক সম্পর্কে ধারনা থাকে। এমন অবস্থায় মাসিক নিয়ে অসচেতনতা দেশের কিশোরীদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পথে অনেক বড় বাধা।

মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে এবং বাংলাদেশের স্কুলগুলোকে মাসিকবান্ধব করে তুলতে যাত্রা শুরু করেছে ‘ঋতু’ প্রকল্প। ‘ঋতু স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক’ এই স্লোগানে ঋতু ক্যাম্পেইন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্কুলগামী ছেলেমেয়ে, তাদের মা-বাবা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও এলাকাবাসীসহ সবাইকে সচেতন করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। ‘ঋতু’ প্রকল্প বাস্তবায়নে আছে সিমাভি, রেড অরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস এবং টিএনও। মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বিএনপিএস এবং ডর্প। ঋতু প্রকল্পটি অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশে অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।

ঋতু’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সামাজিক জাগরণ গড়ে তুলতে হবে। সবাইকে একটা সঠিক চিন্তাধারায় আনতে হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে যা হবে মাসিকবান্ধব। তা না হলে কোন নতুন স্কুলকে অনুমোদন দেয়া হবে না।”

ঢাকায় অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত লিওনি মার্গারিটা বলেন, “মাসিকের দিনগুলোতে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না, কাজে যেতে পারে না। এটা তাদের ক্ষমতায়নের পথে অনেক বড় বাধা। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদ্বারিত্বের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হল ঋতু। এই ঋতু ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মাসিক নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলে অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব হবে বলে আশা রাখি।”

এটুআই প্রকল্প পরিচালক জনাব কবির বিন আনোয়ার বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে শুধু কতগুলো ডিজিটাল ফিগার, ল্যাপটপ, কম্পিউটার তা কিন্তু নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে আধুনিক বাংলাদেশ। বিজ্ঞানসম্মত বাংলাদেশ। সমস্ত কুসংস্কার ও স্টিগমা মুক্ত বাংলাদেশ। আজকে ঋতু ক্যাম্পেইনের মত আধুনিক ও সাহসী উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মাসিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলবো এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো।”

আয়োজনে ঋতু প্রকল্পের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম ও ক্যাম্পেইন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ঋতু প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবা কুমকুম এবং রেডঅরেঞ্জের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ইরশাদ উল্লাহ্‌ সাঈদ হিরো।

মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত স্কুল রিয়েলিটি শো ‘মেয়েদের সেরা স্কুল’ টিভি সিরিজ তৈরি করা হয় যা ঋতু ক্যাম্পেইনের একটি অংশ। এই টিভি সিরিজের মূল দুই চরিত্র ঋতু ও জুয়েল একটি ছোট নাটিকার মাধ্যমে স্কুলভিত্তিক ১৩ পর্বের এই ইনফোটেইনমেন্ট প্রোগ্রামের নানা তথ্য শেয়ার করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

অতিথিদের হাতে ঋতু’র লোগোর একটি করে অংশ দেয়া হয় যা তাঁরা বক্তব্য শেষে নির্দিষ্ট বোর্ডে স্থাপন করেন। এইভাবে সর্বশেষ অংশটি স্থাপনের মাধ্যমে উন্মোচিত হয় ঋতু’র লোগো।

ঋতু’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান, মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য বিষয়ক অধিদপ্তর, নাইমুজ্জামান মুক্তা, পিপল’স পারস্পেক্টিভ স্পেশ্যালিস্ট এন্ড টিম হেড অব স্কিলস্ ফর এমপ্লয়ম্যান্ট এন্ড এইচডি মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশানস্, অর্নব চক্রবর্তী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রেডঅরেঞ্জ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশানস্-সহ আরও অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরাও আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল থেকে কিশোরী মেয়েরাও অংশগ্রহন করেছিল এই আয়োজনে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.