প্রশ্ন কর্তার নাম : নাঈমা ফেরদৌসী

উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ,

বয়ঃসন্ধিকাল একটি মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ১১ থেকে ১৮ বছর বয়স হলো বয়ঃসন্ধিকাল। এ সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে।
তাই বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের খাদ্যের ব্যাপারে বিশেষভাবে মনোযোগী হতে হবে।

বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার বয়ঃসন্ধি ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, এনার্জি লেভেল এবং অন্যান্য বডি প্রসেসে সাহায্য করে। কারণ এ সময় ওদের শারীরিক বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়। তাই এসময় প্রতিদিন তাজা ফল ও সবজি, শস্যদানা, দুধ ও দুধজাতীয় খাবার এবং উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। এ সবের পাশাপাশি মাল্টি ভিটামিন খাওয়াও জরুরি। কেননা, মাল্টি ভিটামিন পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি বিশুদ্ধ পানি পান করা। পানি শরীরকে ডিহাইড্রেশনের কবল থেকে রক্ষা করে মেটাবলিজমকে সচল রাখে। শুধু তাই নয়, পানি শরীরের ওজন কমায়, ত্বক সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই বয়ঃসন্ধিকালে প্রচুর পানি পান করা উচিৎ।

বয়ঃসন্ধিতে মেয়েদের মাসিক শুরু হয় এবং এ কারণে প্রতিমাসে রক্তের মাধ্যমে প্রচুর লৌহ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তাই লৌহ সমৃদ্ধ খাদ্য অপর্যাপ্ত গ্রহণের ফলে আয়রণের অভাবজনিত এনিমিয়া দেখা দেয়। তাই কিশোরীদের খাদ্যের মাধ্যমে লৌহ/আয়রণের চাহিদা পূরণ করতে হবে। ডিম, মাছ, মাংস, কলিজা, সবজি, শাকে প্রচুর আয়রণ রয়েছে। তাই প্রতিদেনের খাবারের তালিকায় এই খাবারগুলোকে স্থান দিতে হবে।

বয়ঃসন্ধিকালে দেখা যায় কিশোর কিশোরীদের বাইরের খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে। তাই ফাস্টফুড ও অধিকমাত্রায় শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের ফলে ওজনবিধ্য দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন মাসিকের সমস্যা, বন্ধাত্বসহ অনেক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এসব খাবার যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের শ্রেণি বিভাগ

ক. শক্তিদায়ক খাবার
শ্বেতসার বা শর্করা সমৃদ্ধ খাবার, যেমন : চাল, গম, ভুট্টা, চিনি, গুড়, আলু, মধু ইত্যাদি
তেলসমৃদ্ধ খাবার, যেমন : তেল, ঘি, মাখন, চর্বি ইত্যাদি।
খ. শরীর বৃদ্ধিকারক ও ক্ষয়পূরক খাবার
প্রাণিজ আমিষ : মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুধজাত খাবার
উদ্ভিজ আমিষ : বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়াবিন, বাদাম, সীমের বীচি, মটরশুঁটি, তৈলবীজ (তিল/সরিষা) ইত্যাদি।
গ. রোগ প্রতিরোধক খাবার
খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন ও খণিজ লবণ সমৃদ্ধ খাবার। যেমন: গাঢ়, রঙিন শাক-সবজি, বিভিন্ন ফলমূল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি।
ঘ. পানি ও তরল খাবার
সকল ধরনের তরল পানীয় যেমন: বিশুদ্ধ পানি, দুধ, ডাবের পানি, ভাতের মাড়, ডালের পানি, শরবত ইত্যাদি।

আরও জানতে আমাদের ওয়বেসাইটে (https://rituonline.org)রেজিস্ট্রেশন করে আমাদের টেকহোম মডিউল (https://rituonline.org/টেক-হোম-মডিউল/) পড়ুন