প্রশ্ন কর্তার নাম : প্রমি ইসলাম

উত্তর: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ,

মাসিক মেয়েদের জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং সুস্থভাবে বেড়েওঠা ও সন্তানধারণ ক্ষমতালাভের লক্ষণ। মেয়েদের তলপেটের জরায়ুর দু’পাশে দু’টি ছোট থলি থাকে যাকে ওভারি বা ডিম্বাশয় বলে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের ডিম্বাশয় থেকে প্রতিমাসে একটি করে ডিম বা ডিম্বাণু পরিপক্ক হয়। একে বলে ডিম্বস্ফোটন। পরে এই ডিম্বাণু ডিম্বনালির পথ দিয়ে দুই ডিম্বাশয়ের মাঝ খানে অবস্থিত জরায়ুতে এসে আশ্রয় নেয়। এই সময়ে জরায়ুতে ডিম্বানুকে ধরে রাখার জন্য রক্তে ভরা একটি পর্দা বা আস্তরন তৈরী হয়। এই অবস্থায় ডিম্বানু ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত থাকে। এই সময়ের মধ্যে ডিম্বানু নিষিক্ত না হলে এই রক্তে ভরাপর্দা ও ডিম্বানু ফেটে যায় এবং যোনি পথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এই ঘটনা ৩ দিন থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রত্যেক মাসে হয় বলে এই ঘটনাকেই মাসিক বা ঋতুস্রাব বা রজ:স্রাব বা পিরিয়ড বা মিনিস্ট্রুয়েশন বলে।
মনে রাখতে হবে যে-
•    মাসিক শুরু হবার গড় সময় ৯ থেকে ১৫ হলেও আমাদের দেশে অনেক মেয়েরই সাধারণত ১২ বছর বয়সে হয়, কারো আবার ৯ বছরেই আরম্ভ হয়ে
যায়, আবার কারো-বা এটা ১৮ বছরেও শুরু হতে পারে। এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছুনেই।
•    একইভাবে, মেনোপজ-এর বেলায়কারো ৪০এও আরম্ব হতে পারে, কারো-বা এটা ৫৫ জছর পরেও আরম্ভ হতে পারে।
•    মাসিক চলার স্বাভাবিক সময়সীমা ৩ দিন থেকে ৭ দিন ধরা হলেও, কারো-বা ১০ দিন পর্যন্ত চলতে চলতে পারে।
•    মাসিকচক্রের সাধারণ সময়সীমা ২৮ দিন। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে এটি ২৪ দিনও হতে পারে, আবার ৪৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
•    প্রথমবার মাসিক শুরু হবার পর দুই বছর বা তার কিছু বেশী সময় মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। এর কারণ হলো তাদের প্রজননঅঙ্গ তখন ও
পরিপূর্ণ ভাবে তৈরী হয়নি। এসময়ের পরে স্বাভাবিক ভাবেই বালিকাদের মাসিক নিয়মিত হয়ে ওঠে। কাজেই অল্পবয়সী মেয়েদের, যাদের প্রথম মাসিক
হয়েছে তাদের মাসিক অনিয়মিত থাকলে দুঃশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই।
•    মেয়েরা তাদের মাসিক চক্র নিয়মিত হচ্ছে কিনা বোঝার জন্য ফোনে বা দেয়ালের ক্যালেন্ডারে দাগে কেটে রাখতে পারে।

স্কুলে মাসিক হলে:

মাসিক একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি সুস্থ স্বাভাবিক নারীর প্রতি মাসে মাসিক হয়।
চান্দ্র মাসের সঙ্গে একটি প্রাকৃতিক সম্পর্ক আছে বলেই একে মাসিক বলা হয়। মাসিক নিয়ে ভয়ভীতি বা লজ্জার কিছু নেই। কিন্তু অপ্রস্তুত অবস্থায় মাসিক শুরু হয়ে গেলে অনেক সময় খানিকটা অস্বস্তিতে পড়তে হয় বটে।
যেমন ধরা যাক স্কুলে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে কারো মাসিক শুরু হয়ে যেতে পারে। স্কুলগামী কিশোরী মেয়েদের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কেননা, প্রথম মাসিক শুরুর পর প্রায় বছর দুয়েক পর্যন্ত মাসিক নিয়মিত না-ও হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ২৮ বা ৩০ দিনে মাসিক চক্র ভাঙছে না, হয়তো এই সময়সীমার আগে বা পরে হয়ে যাচ্ছে। তাই স্কুলে মাসিক শুরু হওয়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যায়।
এমন সম্ভাবনা বা আশঙ্কা থাকলে কিছু কিছু বিষয়ে মনযোগী হওয়া যেতে পারে। যেমন-

•    স্কুলব্যাগে বাড়তি একটি বা দুইটি প্যাড অথবা পরিষ্কার গামছা রেখে দেওয়া যেতে পারে।
•    ক্লাসে শুরু হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানানো যায়। এতে লজ্জা বা সঙ্কোচের কিছু নেই।
•    স্কুলে মাসিকবান্ধব বাথরুম না থাকলে সহপাঠীরা মিলে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানানো যেতে পারে। প্রয়োজনে কয়েক ক্লাসের
ছাত্রীরা মিলে আলোচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

যেহেতু মাসিক প্রতি মাসেই হয় এবং ব্যক্তি বিশেষে পাঁচ থেকে সাতদিন পর্যন্ত রক্তস্রাব স্থায়ী হয়। ফলে, এই কারণে স্কুলে যাওয়া বন্ধ রেখে পড়ালেখার ক্ষতি করার কোন অর্থ হয় না। তাতে সহপাঠীদের চেয়ে পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে যা পরবর্তীতে মানসিক অবসাদের কারণ হতে পারে।
তাই, স্কুলে হঠাৎ করে মাসিক শুরু হয়ে গেলে যেন বিপদে পড়তে না হয় সেজন্যে সবারই উচিত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। তাতে নিজের ও সকলের জন্য সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

আরও জানতে আমাদের ওয়বেসাইটে (https://rituonline.org)রেজিস্ট্রেশন করে আমাদের টেকহোম মডিউল (https://rituonline.org/টেক-হোম-মডিউল/) পড়ুন