রোজার সময় পিরিয়ড, নারীদের লুকোচুরি

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী নারীদের পিরিয়ড-ঋতুস্রাব বা মাসিক চলাকালে রোজা রাখতে হয় না। সে ক্ষেত্রে দিনের বেলায় খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ভীষণ বিড়ম্বনা পোহাতে হয় তাদের, বিশেষ করে কোনো কিছু খাওয়ার সময় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা যখন তাকিয়ে থাকেন।

তাই রমজানে নারীদের পিরিয়ডের সময় কী করা উচিত, সেটি নিয়ে মেয়েরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা করছেন।

এ বিষয়ে পাকিস্তানী বংশদ্ভুত নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা সোফিয়া জামিল বলেন, ‘অনেকে ঋতুস্রাবের বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখতে চায় না। মুসলিমদের মধ্যে বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়।

আমার মা আমাকে বলতেন, যখন তোমার পিরিয়ড শুরু হবে তখন বিষয়টি পুরুষদের বলবে না। এটা শুধু মেয়েরা জানবে।

সেজন্য রমজানে পানি খাওয়ার সময় আমার বাবাকে আসতে দেখলে দ্রুত গ্লাসটি নামিয়ে ফেলতাম এবং ওনার সামনে থেকে চলে যেতাম। আমার মা আমার কক্ষে খাবার দিয়ে যেত এবং চুপিচুপি খেয়ে ফেলার পরামর্শ দিত।’

একবার রমজানে পিরিয়ডের সময় খাবার খেতে গিয়ে তার ভাইয়ের সামনে পড়েছিলেন সোফিয়া, সে সে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই যখন আমাকে খেতে দেখল, তখন আমার মুখে কামড় পড়ল। সে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল আমি যে খাবার খাচ্ছি সেটি হাতে-নাতে ধরে আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছিল।

আমি যদি বলতে পারতাম যে এটা খুব স্বাভাবিক এবং আমার ধর্মে বলা আছে আমি যদি যথেষ্ট পবিত্র না হই, তাহলে আমি রোজা পালন করতে পারবো না।’

ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযাযী, রমজানের সময় একজন মুসলিম সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেমন খাবার কিংবা পানি খেতে পারেন না, তেমনি রমজানের সময় যে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও যেতে পারেন না।

তবে নারীদের বেলায়ও এ নিয়ম প্রযোজ্য। তবে পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের সময় তারা নামাজ, রোজা, কোরআন শরিফ পড়া কিংবা মসজিদে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়। গর্ভবতী হলেও রোজা পালন না করা গ্রহণযোগ্য। এ ছাড়া শারীরিক কিংবা মানসিক অসুস্থতা, ভ্রমণের সময় রোজা পালন না করার বিষয়টিও গ্রহণযোগ্য।

তবে রোজা রাখার কারণে যদি তীব্র ক্ষুধা কিংবা তৃষ্ণার কারণে কারও জীবন হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে রোজা ভঙ্গ করা যেতে পারে।

নিউ ইয়র্কের মুসলিম স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাবরিন ইমতায়ির জানান, ঋতুস্রাব নিয়ে যাতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয় সেজন্য তিনি মানুষজনকে উৎসাহিত করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হওয়া দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

সাবরিন ইমতায়ির বলেন, ‘আমার পরিবার এক্ষেত্রে অনেক উদার। কিন্তু কিছু মেয়ে আছে যারা রমজানের সময় পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সামনে পিরিয়ডের সময় কিছু খেতে চায় না। পিরিয়ডের সময় মেয়েরা নিজেদের নোংরা মনে করে এবং লজ্জা পায়।

এক রমজানে আমি খাবার কিনতে বাইরে যাচ্ছিলাম। তখন আমার ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করল, কেন খাবার আনতে যাচ্ছি? আমি তাকে বললাম, আমার পিরিয়ড চলছে। সে বিষয়টি খুব সহজভাবে নিয়েছিল।’

সাবরিন ইমতায়ির জানান, ঋতুস্রাবের সময় কী করতে হয় সেটি তার মা তাকে শিখিয়েছিল।

‘কিছুদিন আগ পর্যন্ত আমি বিষয়টি নিয়ে মানুষের কথা বলিনি। কারণ এটিকে নিষিদ্ধ বিষয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু মেয়েদের সবার ঋতুস্রাব হয়। এটা স্বাভাবিক বিষয় এবং আমাদের উচিত এটিকে হিসেবে গ্রহণ করা।’ বলেন সাবরিন।

এভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক মেয়ে বিষয়টি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

এক নারী লিখেছেন, ‘রমজানে আমার পিরিয়ডের সময় আমি কক্ষের দরজা বন্ধ করে খাবার খেয়েছি। আমার মা চাইতেন আমার বাবা এবং ভাইরা যাতে বিষয়টি না জানে। কিন্তু বিষয়টি আমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগতো। আমি তো এমন কোনো কাজ করছি না, যেটি আমাকে লুকিয়ে করতে হবে।’

Source : https://www.priyo.com/articles/rowdy-time-period-hide-hide-of-women-201806031657

Leave a Reply

Your email address will not be published.