মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় দরকার গণসচেতনতা

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

আমি একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে নিজেকে সমাজ সচেতন ব্যক্তি মনে করলেও নারীর ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা বা মাসিক ব্যবস্থাপন সম্পর্কে শুধু জানতাম মাসিক একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বিষয়। এ প্রসঙ্গটি আলোচনার নয় বরং লজ্জার বিষয়। আমার এ ধারণাটির পরিবর্তন ঘটিয়েছে বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড অরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ও ঋতু প্রকল্প। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস এর দুতাবাসের অর্থায়নে ঋতু প্রকল্প মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ঋতু প্রকল্পে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সিমাভি লিড, রেড অরেঞ্জ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশনস স্ট্র্যাটেজিক এন্ড কমিউনিকেশন পার্টনার, নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা টিএনও পার্টনার হিসেব আছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন পার্টনার হিসেবে কাজ করছে বিএনপিএস এবং ডিওআরপি।

মাসিক নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে খোলামেলা আলোচনার মানসিকতা এখনও আমাদের সমাজে তৈরি হয়নি। প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসলেই লজ্জা পান নারীরা। বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেন সবার থেকে। আসলে মাসিক কোনো রোগ নয়। এটি একটি প্রকৃতি-প্রদত্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যদি ঋতু না থাকত আমরা পৃথিবীতে আসতাম না। অনেক মেয়েরা মাসিক সম্পর্কে না জানার জন্য বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় পড়েন। তাদের অধিকাংশই পুরোনো কাপড় বা অন্য যেকোনো কাপড়ের কোনো অংশ মাসিক ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করেন। একই কাপড় বারবার ব্যবহার করেন অনেকেই। এ কাপড়গুলো ঠিকমতো শুকানো হয় না। অনেক সময় স্বাস্থ্যসম্মত জায়গায় রাখা হয় না। এসব কারণে নানা ধরনের জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এসব জীবাণু থেকে মেয়েরা বিভিন্ন রোগে ভুগে থাকেন। আর এটা তারা করেন বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে গোপন এবং লজ্জার বলে মনে করার কারণে।

মাসিকের সময় বিভিন্ন খাবারে নিষেধাজ্ঞা মানতে হয়। আবার এ সময় তাকে বাসার বাইরে বের হতে দেওয়া হয় না। পুকুরে গোসল করতে দেওয়া হয় না। এমন সব ভ্রান্ত ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মাসিকের ব্যাপারে সামাজিক বিধিনিষেধ, ভুল ধারণা ও রীতিনীতি নারী ও কিশোরীদের ওপর মানসিক ও শারীরিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলে। অস্বস্তি বা লজ্জার কারণে ঋতু চলাকালে স্কুলেও যায় না কিশোরীদের একটি বড় অংশ।

নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতায় ঋতুকালীন বিষয় সামনে রেখে এনজিও ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা রকম উদ্যোগী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে মাসিক সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারনা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য গণমাধ্যমকেও এগিয়ে আসতে হবে ও গণসচেতনতা তৈরী করতে হবে।

Source: http://www.purbakantho.com/?p=14899

Leave a Reply

Your email address will not be published.