মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক খবরাখবর

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

বয়ঃসন্ধিকালে প্রতিটি ছেলে-মেয়ে একটা শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এই শারীরিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রতি মাসে মেয়েদের মাসিক হয়ে থাকে। সাধারনত ৯-১৩ বছর বয়সে মেয়েদের মাসিক হয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে তা ১৫ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
প্রতি মাসে মেয়েদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বানু উৎপন্ন হয়। এর মধ্য একটি পরিপক্ক ডিম্বাণু ডিম্বনালির মধ্য দিয়ে জরায়ুতে আসে। এ সময় ডিম্বাণুটিকে ঘিরে জরায়ুতে রক্তের আবরণ তৈরি হয়। ডিম্বাণু, শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে মেয়েরা গর্ভধারণ করে। কিন্তু নিষিক্ত না হলে ডিম্বাণুটি নষ্ট হয়ে যায় এবং রক্তের আবরণসহ যোনীপথ দিয়ে রক্ত আকারে বের হয়ে যায়। একেই বলা হয় মাসিক।

মাসিক সাধারনত ২৮ দিন পর পর হয়ে থাকে এবং ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অনেকের ক্ষেত্রে তা ১০ দিন পর্যন্তও হতে পারে। মাসিক শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকে পরবর্তী মাসিকের আগের দিন পর্যন্ত সময়কে মাসিক চক্র বলা হয়। ব্যক্তি বিশেষে এই চক্রকাল ২৮ দিনের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। তবে ১০ দিনের বেশি রক্তপাত হলে কিংবা ২৬ দিনের কম সময়ে মাসিক হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
মাসিক শরীর খারাপ বা অসুস্থতা নয়। মাসিক একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই অন্যান্য দিনের মতোই এ সময়ও সব ধরণের কাজ করা, স্কুলে যাওয়া এবং খাবার খাওয়া যায়। তবে মাসিকের সময় শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যায় বলে, বেশি করে আয়রনযুক্ত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাক-সবজি, ফল, কাজুবাদাম, ডাল ইত্যাদি।

মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মাসিকের সময় ব্যবহৃত প্যাড বা কাপড় পরিস্কার রাখার পাশাপাশি নিজের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল করতে হবে। ৪-৬ ঘন্টা পর পর ব্যবহৃত প্যাড বা কাপড় বদলাতে হবে। কাপড় ও প্যান্টি সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে। প্যাড বা কাপড় ফেলার সময় কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলতে হবে অথবা গর্ত করে পুতে ফেলতে হবে। টয়লেট ব্যবহারের পর পরিষ্কার পানি ব্যবহার করতে হবে এবং সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

মাসিক নিয়ে সচেতনতা না বাড়ালে মেয়েরা নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পরতে পারে। তাই মাসিক নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে সবাইকে। আর মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তেমনই একটি প্রকল্প হলো ঋতু যা বাস্তবায়নে কাজ করছে সিমাভি, রেডঅরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস, টিএনও,ডিওআরপি এবং বিএনপিএস। প্রকল্পটি সম্পর্কে ও মাসিক সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করতে পারেন এই ওয়েবসাইটটি www.rituonline.org মাসিক নিয়ে আর কোন লজ্জা, জড়তা, ভয় নয় বরং কুসংস্কারগুলো এড়িয়ে মাসিক সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে সবাইকে যাতে মাসিকের সময় আর কোন মেয়ে স্কুল কামাই না করে, অপুষ্টির শিকার না হয়।

Source: http://www.durnitibarta.com/archives/26210

Leave a Reply

Your email address will not be published.