মাসিকের জন্য প্রস্তুতি সবসময়

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

ফারিয়া জেলা শহরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। সকাল থেকেই যথেষ্ঠ মনোযোগী হয়ে সবগুলো ক্লাস করছে। ইংরেজী ক্লাস চলাকালীন হঠাত সে বুঝতে পারে তার মাসিক হয়েছে। মনটা নিমেষেই খারাপ হয়ে যায় তার। সে টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজনবোধ করে। কিন্তু স্যারকে কি বলবে না বলবে না ভেবে মনে মনে ভাবলো ক্লাসটা শেষ করে তবেই টয়লেটে যাবে।

যাবে। তার সাথে কোন প্যাড নেই। এখন সে কি করবে। হঠাৎ স্যারের ডাকে সম্ভিত ফিরে পায় ফারিয়া। কি ব্যাপার ফারিয়া, তোমাকে অমনোযোগী দেখছি। ফারিয়া কিছু বলতে যেয়েও বলতে পারছিল না স্যারকে। একপর্যায়ে স্যারকে জানায় তার শরীরটা ভালো লাগছেনা। সে আর ক্লাস করবেনা। স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ক্লাসের বাইরে মাঠের কোনায় বসে আবারো আনমনে ভাবতে থাকে এখন সে কি করবে? তার মনে সন্দেহ হয় সাদা পায়জামায় লাল দাগ হয়েছে কিনা। এমন সময় পিছন থেকে বান্ধবী রিক্তা জানতে চায় যে তার কি হয়েছে। প্রথমে কিছুটা ইতস্ততবোধ করলেও কিছুক্ষণপর সব খুলে বলে ফারিয়া। রিক্তা জানায় চিন্তার কোন কারন নেই, তার কাছে প্যাড আছে। ফারিয়া কিছুটা স্বস্থিবোধ করে। এরকম পরিস্থিতিতে যেন পড়তে না হয়, সেজন্য সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

মাসিক যেকোন সময়, যেকোন জায়গায় হতে পারে। ক্লাসে, বাসে, ট্রেনে, গাড়িতে, ওয়াগনে, স্পেইসশিপে। তাই এ বিষয়ক পূর্বপ্রস্তুতি থাকা দরকার। কারণ অপ্র¯তুত অবস্থায় মাসিক হওয়া এবং ব্যবস্থাপনা না থাকা একটা ছোট-খাটো দূর্যোগের মতো। অনিয়মিত মাসিক সমস্যা থাকলে কিংবা কোথাও ঘুরতে গেলে, একটু অসাবধানতার জন্য ফারিয়ার মতো অনেকেই এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।

বাড়ি থেকে বের হবার আগে কিংবা সবসময়ই ব্যাগে মাসিকের সময় ব্যবহার করা হয়, এরকম প্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে হবে। পরিস্কার কাপড়, তুলা বা প্যাড, হিটিং প্যাডস, আরামদায়ক কাপড়, প্ল্যাস্টিক ব্যাগ, টিস্যু, হ্যান্ড সেনিটিজার ইত্যাদি। আর যাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে, পিরিয়ডের সময় ব্যথা হয়। তাদের অবশ্যই সাথে প্রয়োজনীয় ঔষুধ রাখতে হবে। ব্যথা হলে আর কিছু পাওয়া না গেলে, পর্যাপ্ত পরিমান পানি খেতে হবে। দীর্ঘ সময় পর প্যাড বা কাপড় পরিবর্তন না করাই উত্তম। তাই যেকোন পরিস্থিতিতে বিষয়টি শেয়ার করা যায় এমন কাউকে বলে তার সাহায্য নিতে হবে।সুস্থ্য থাকা মানেই, ভালো থাকা।মাসিক সুস্থ্যতার লক্ষণ এবং একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপার। তাই এটিকে দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ ভেবে নিয়ে সব সময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা জরুরী।

সাধারনত, ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সেরমধ্যে মাসিক হয়। এরপর প্রতিমাসে ২৮ দিন পর পর হয়ে শারীরিক গঠন অনুযায়ী ৩-১০ দিন পর্যন্ত মাসিক স্থায়ী হয়।ক্ষুধা লাগা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, হালকা হালকা মাথা ব্যথা, মুখে ব্রণ হওয়া, ঘুমের সমস্যা, মাঝে মাঝে বমি ভাব হওয়া,তলপেটে ব্যথা, মাসিকের সময় এ লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে, মাত্রাতিরিক্ত রক্তপাত, ৭ থেকে ১০দিনেরবেশি সময় ধরে রক্তপাত, মাসে একাধিক বার মাসিক হওয়া, তলপেটে অত্যধিক ব্যথা, মাসিক চলাকালীন সময় জ্বর এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের পরমর্শ নিতে হবে।

Source: http://www.durnitibarta.com/archives/23578

Leave a Reply

Your email address will not be published.