বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকই সরকারী নির্দেশনা সর্ম্পকে জানেননা

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা পূরুণের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত উন্নয়নের ধাপ বিবেচনায় টেকসই স্যানিটেশন জন্য দেশের বিদ্যালয়গুলাতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সরকারী নির্দেশনা থাকলেও সিংহভাগ শিক্ষক বিষয়টি সর্ম্পকে জানেনা। তবে, জেলা শিক্ষা অফিসের দাবি, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিদের্শণা পাঠালেও গাফিলতির কারণে ভ’লে যান শিক্ষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের সরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে থানা পর্যায়ের দুই একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানেই মেয়েদের আলাদা টয়লেটে মাসিকের জন্য ঢাকনাযুক্ত পাত্র রাখোনা। এছাড়া মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢাকনাযুক্ত পাত্র নেই তো নেইই প্রধান শিক্ষকরাও আইনটি সর্ম্পকে কিছুই জানেনা। যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারী নির্দেশনা সর্ম্পকে কিছ’ইজানে সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সর্ম্পকে বিস্তর অভিযোগ আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহকারী শিক্ষক আজকের অগ্রবানীকে বলেন, আমরা তো এ বিষয়ে যে আইন আছে সে বিষটিই জানিনা। আমাদের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের আইনটি সর্ম্পকে কোন কিছুই জানায়না। তবে, যেহেতু প্রধান শিক্ষক এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল তাই আমরা এসব বিষয়ে বেশি কথা বলিনা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টয়লেটগুলো যেভাবে ময়লা আর নোংরা অবস্থায় থাকে সেখানে নারীবন্ধব টয়লেট থাকা অলিক স্বপ্ন। কারণ, টয়লেটগুলোর যে অবস্থা থাকে সেখানে প্রয়োজন থাকা সতের্¦ও যেতে পারিনা। এমনকি বাসায় ফেরা পর্যন্ত কষ্ট করে অপেক্ষা করি।
নিরাপদ স্যানিটেশনের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের জুনে একটি নির্দেশনা জারি করে সরকার। যেখানে ৩ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে ‘জেন্ডার বান্ধব স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। টয়লেটে ঢাকনাযুক্ত প্লাষ্টিকের পাত্র রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

কিন্ত বাস্তবে এ নির্দেশনাটির প্রয়োগ নেই বললেই চলে। কারণ সিংহভাগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বিষয়টি সর্ম্পকে কোন ধারণা রাখেনা বলে জানা গেছে। তবে শহুরে প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র একটু ভিন্ন। গাইবান্ধা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছাত্রীদের জন্য এই বিদ্যালয়টি জেলার শ্রেষ্ঠ। তাই যখন এই পরিপত্রটি জারি হয় তার আগে থেকেই এখানে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা করি। আর পরিপত্রটি জারি হওয়ার পর ঢাকনাযুক্ত ময়লারপাত্র রাখার ব্যবস্থা করছি। আর এ ব্যবস্থাটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকেই করে আসছি।

তিনি মনে করেন, একটু সচেতন, চিন্তাশীল মানসিকতা থাকলেই জেন্ডার বান্ধব স্যানিটেশন করা সম্ভব বলে অভিমত দেন তিনি।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এক প্রধান শিক্ষককে পরিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তা কোনদিন শুনেননি বলে অভিমত দেন। সেখানকার পলাশবাড়ী পিয়ারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহ মো. মাহাবুবুর আলম বলেন, আমি পরিপত্রটি সর্ম্পকে অবগত নই। তবে আমরা স্যানিটেশনের বিষয়ে সচেতন। সুষ্টুভাবে পাঠদান করতে গেলে গোছানো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ জরুরী।
এছাড়া প্রায় এগারোশ শিক্ষার্থীর জন্য ৫টি টয়লেট আছেও বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের এমন অবস্থা নিয়ে গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে নারী স্বাস্থ্য, বিশেষ করে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য এবং পিরিয়ড বা মাসিকের সময়ে পরিচ্ছন্নতা বা নিরাপদ ব্যবস্থাপনা না থাকার অন্যতম কারণ সমাজের রক্ষণশীলতা। সেই সঙ্গে অসেচেতনতাও সমানভাবে দায়ি। এ বিষয়ে আইসিডিডিআরবি’র গবেষণা কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তেমনটাই, আমরা দেখেছি, এ নিয়ে মানুষের মধ্যে সংকোচ আছে, অজ্ঞতা আছে। লোকে এ নিয়ে কথা পর্যন্ত বলতে চায় না।

তিনি আরো বলেন, স্কুলগুলোয় পিরিয়ড সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা একেবারেই নেই। এসব কারণেই মেয়েদের অনেক সময় দ্রæত বিয়ে দিয়ে দেয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিপত্রটি জানার বিষয়ে শিক্ষকদের অজ্ঞতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন রংপুর জেলা শিক্ষা (মাধ্যমিক) কর্মকর্তা রোকসানা বেগম। তিনি বলেন, আমরা সরকারের নিকট থেকে যে সব পরিপত্র পাই সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিই। যেসব শিক্ষকরা বলছেন জানিনা; জানার বিষয়টি ভুলে অস্বীকার করছেন।

তিনি আরো বলেন, শহরের বাহিরে যেসব প্রতিষ্ঠানে স্যানিটেশন ব্যবস্থা আছে সেগুলোও ঠিকঠাকভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা হয়না।

Source: http://ajkerograbani.com/%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%BF/

Leave a Reply

Your email address will not be published.