পিরিয়ডকালীন ব্যবস্থাপনায় স্কুলগুলো কি প্রস্তুত?

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

প্রতিটি নারীর জন্য পিরিয়ড বা মাসিক খুবই সাধারণ একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। কিন্তু এ নিয়ে সমাজে রয়েছে অনেক ট্যাবু। মেয়েদের পিরিয়ড কালীন ব্যবস্থাপনায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি আদৌ প্রস্তুত?

গবেষণার তথ্য বলছে পিরিয়ডকালীন ব্যবস্থাপনা নেই অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। স্কুলগুলোতে পিরিয়ডবান্ধব টয়লেট, পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) সুবিধা নেই বললেই চলে। একই সঙ্গে এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট এবং সুবিধা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনাও নেই সরকারের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ফাইন্যান্সিং স্ট্র্যাটেজি ২০১৭ প্রণীত দলিলে। যদিও সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০) ছাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেট এবং পর্যাপ্ত স্যানিটারি ন্যাপকিন ও পরিষ্কারের সুবিধা অন্তর্ভুক্তিকরণের গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ২০১৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেট ব্যবস্থাপনা, যার মধ্যে উন্নত সুবিধাসহ সাবান, পানির ব্যবস্থা, বিন এবং মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর মেয়েদের শিক্ষা দেয়ার জন্য নারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে। দেশব্যাপী এই নির্দেশনা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

২০১৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল হাইজিন বেজলাইন সার্ভে অনুযায়ী, প্রতি ১৮৭ শিক্ষার্থীর জন্য একটি টয়লেট আছে। অথচ সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রতি ৫০ জনের জন্য একটি টয়লেট থাকার কথা। গ্রামীণ এলাকায় ৪৩ শতাংশ স্কুলে উন্নত এবং কার্যকরী টয়লেট ছিল। যা মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা ছিল। অপরদিকে মাত্র ২৪ শতাংশ স্কুলে টয়লেট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৩২ শতাংশ স্কুলে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিল। অপরদিকে শহর এলাকায় ৬৩ শতাংশ স্কুলে উন্নত এবং কার্যকরী টয়লেট যা মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা ছিল, ৪৭ শতাংশ স্কুলে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিল। নেত্রকোনা জেলায় র্ডপ বাস্তবায়িত ঋতু প্রকল্পের (২০১৭) বেজলাইন সার্ভে রিপোর্টেও প্রায় একই ধরনের ফলাফল উঠে আসে।

ওই সার্ভেতে বলা হয়, ৪০ শতাংশ ছাত্রী তাদের পিরিয়ডের সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। বয়ঃসন্ধি বা প্রথম পিরিয়ডের আগে মাত্র ৩৬ শতাংশ ছাত্রী বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারে। ফলে তারা যখন জীবনের এই অধ্যায়ে পা রাখে তখন চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কী করতে হবে সে জ্ঞান না থাকা এবং স্কুলে ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেট না থাকায় তারা স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। ওই সার্ভেতে পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা র্ডপ। সংস্থার গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান জানান, ঋতু প্রকল্প বর্তমানে নেত্রকোনা জেলার ৮টি উপজেলায় কাজ করছে। পিরিয়ড সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি স্কুলগুলোতে পিরিয়ডবান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে আশার কথা, ঋতু প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

তথ্য সূত্র : http://www.bhorerkagoj.com/print-edition/2019/01/07/230366.php

Leave a Reply

Your email address will not be published.