নারীর স্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে যা সম্পর্কিত

This content was developed for Bangladeshi Nationals.

মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্টের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারী ও কিশোরীরা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে অবহেলিত। তাদের মতে, এটি টেকসই উন্নয়ন অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, যা আবার জড়িত নারীদের সমান অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গেও। আমাদের দেশে মেয়েরা ঋতুস্রাবের সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। পর্যাপ্ত পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, ঋতুস্রাব সম্পর্কিত শারীরবৃত্তীয় জ্ঞানের ঘাটতি এবং কিছু ভ্রান্ত ধারণা নারীদের ঋতুস্রাবের সময় স্বাভাবিক আচরণের ক্ষেত্রে সবসময়ই বাধা হয়ে আসছে, যার প্রভাব পড়ছে মেয়েদের স্বাস্থ্য, মানসিক উন্নয়ন ও শিক্ষায়।

অন্যদিকে মেয়েদের স্কুলে অনুপস্থিতির হার দেখলেই এর প্রভাব অনুমান করা যায়। একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৪০ শতাংশ কিশোরী ঋতুস্রাবের সময় মাসে প্রায় তিনদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, যার প্রভাব পড়ে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখায়।

কিশোরীদের স্কুলে অনুপস্থিতির মূল কারণ হলো টয়লেটে পর্যাপ্ত পানির কমতি। সেই সঙ্গে অধিকাংশ কিশোরী এসব টয়লেটে নিরাপদ বোধ করে না। শুধু তা-ই নয়, অনেকে তো তাদের বসবাসের জায়গাগুলোতেও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়। মোট হিসাবমতে, প্রায় ৬৭ শতাংশ মেয়ে ঋতুস্রাব চলাকালীন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে।

রেড অরেঞ্জ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন কাজ করছে মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব প্রোগ্রাম নকিব রাজিব আহমেদ বলেন, মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট সরাসরি টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। কিশোরী ও নারীদের জন্য ঋতুস্রাব একটি সাধারণ শারীরিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বিস্ময়কর হচ্ছে, এ ব্যাপারে সবার অনীহা কথা বলতে। সবাই চুপ থাকাকেই যেন সমাধান মনে করেন। ৯ থেকে ১৯ বছরের কিশোরী ও ১৫-৪৯ বছরের নারীরা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে তাচ্ছিল্যের শিকার হন ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোগেন।

সরকারের প্রক্রিয়াকে ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, আমাদের মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত জ্ঞানের এখনো অনেক ঘাটতি আছে এবং সবক্ষেত্রেই একটি সুস্থ স্বাস্থ্যের যে অধিকার, তা রক্ষায় আমাদের কোনো পর্যাপ্ত পদক্ষেপই নেই। জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ কিশোরী হওয়া সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কোনো গুরুত্বই নেই নীতিনির্ধারকদের কাছে।

একটি পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন নেত্রকোনায় ৮৯টি স্কুলের প্রায় ৪০ শতাংশ কিশোরী অনুপস্থিত থাকে ঋতুস্রাবের সময়। পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকায় অনেক ছাত্রীই বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়, যা মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এখানেই শেষ নয়। আরেকটি পরিসংখ্যানমতে, প্রায় ৯১ শতাংশ ছাত্রী ঋতুস্রাবের সময় অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহার করে। অর্থাৎ মাত্র ৯ শতাংশ মেয়ে উন্নত মানের ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ পায়। অধিকাংশ নারী ও কিশোরী যেখানে সেখানে তাদের ন্যাপকিনগুলো ফেলে দেয়, যা পরিবেশের জন্য মোটেই বন্ধুসুলভ নয়।

অন্যদিকে একটি জরিপে উঠে আসে, সামর্থ্যের অভাবে বাংলাদেশে প্রায় ৮৬ শতাংশ নারী ঋতুস্রাব চলাকালীন উন্নত মানের ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারেন না এবং প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কিশোরী ঋতুস্রাবের প্রথম অভিজ্ঞতার আগ পর্যন্ত জানেই না বিষয়টি সম্পর্কে। ফলে এ বিষয়ে তাদের যথেষ্ট জ্ঞানের ঘাটতি থেকেই যায়। তার প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্যে।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোকেয়া কবির বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও সমান অধিকারের সঙ্গে মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন সরাসরি যুক্ত। তাই মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট যদি আধুনিকায়ন করা না যায়, তাহলে ক্লাসে ও কর্মস্থলে নারীর অনুপস্থিতির হার ক্রমেই বাড়বে। তাই নারীর সমান অধিকার ও দেশের উন্নতিতে অংশগ্রহণের জন্য বিষয়টি আধুনিকায়ন করা খুবই দরকার।

তিনি আরো বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমানভাবে দায়িত্ব নেয়া উচিত নিরাপদ মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি বাস্তবায়নে।

Source: http://bonikbarta.net/bangla/news/2018-08-27/168616/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%93-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%87-%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A4/

Leave a Reply

Your email address will not be published.